Home / Health / কম বয়সে উচ্চরক্তচাপ?

কম বয়সে উচ্চরক্তচাপ?

নিতান্ত কম বয়সে যাদের প্রেশার বাড়ছে, তাদের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ দেওয়া হলো। একটু পরিষ্কার করা যাক। ২৮ বছরের তরতাজা যুবক ২৫-এর সুস্থ সবল তরুণী। কথা নেই বার্তা নেই, হঠাত্‍ শুরু হল মারাত্মক মাথাব্যথা, সঙ্গে বমি! বদহজম ভেবে খেলেন একটা বমির ওষুধ। মাথাব্যথা কমাতে প্যারাসিটামল। কিন্তু সমস্যা কমে তো গেলোই না, বরং বাড়তে লাগল। ফলে ডাক্তার ছাড়া উপায় নেই। তিনি রোগী দেখে আর দেরি না করে পাঠিয়ে দিলেন হাসপাতালে।

ইমারজেন্সিতে পৌঁছামাত্র শুরু হয়ে হলো হই চই। ডাক্তাররা জানালেন, হাইপারটেনসিভ ইমারজেন্সি হয়েছে। ২২০/১২০ রক্তচাপে ওই রকম মাথাব্যথা মানে ঘোরতর বিপদের কথা! ততক্ষণে যুবকের নড়াচড়া প্রায় বন্ধ। প্রচণ্ড ব্যথা নিয়েও এই চুপ করে যাওয়া আতঙ্ক ছড়াল সবার মনে। এরই মাঝে ডাক্তার পাঠালেন ব্রেনের সিটি স্ক্যান করতে। যা আশঙ্কা করা হয়েছিল, তাই হলো। রিপোর্ট বলছে, মাথায় সম্ভবত হেমারেজ হয়েছে। রক্তচাপ তখন ২১০/১০০।

ইনটেনসিভ থেরাপি ইউনিটে শুরু হল রক্তচাপ কমানোর চিকিত্‍সা। সঙ্গে অন্যান্য আনুসঙ্গিক। রক্তচাপ কমে গেল দ্রুত। তারপর এক দিন দুই দিনে একটু একটু করে সচল হতে শুরু করলো রোগীর হাত-পা। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন ডাক্তার। মাথায় জমা রক্ত মিলিয়ে যেতে শুরু করেছে। খুব দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল বলে নার্ভের ক্ষতিও বিশেষ হয়নি। দিন দশেক পর বাড়ি ফিরলেন যুবক। আর তার পরিবার পরিজন এবং আপনারা যারা পাঠক তাদের মনে আসছে অসংখ্য প্রশ্ন।

প্রশ্নের মেলা

হতে পারে বংশগতভাবে উচ্চরক্তচাপের সমস্যা যুবকের। বাবা-মা দুজনই হাই প্রেশারের রোগী। কিন্তু তাদের রোগ হয়েছিল পঞ্চাশের কোঠা পার হয়ে। কিন্তু তার বেলায় ২৮-এ কেনো? আর প্রথমেই তা জানান দিলো স্ট্রোকের মাধ্যমে? তবে কি স্ট্রেস আর সিগারেটই কালপ্রিট? নাকি প্রতিপদের টেনশন বিপদকে ত্বরাণ্বিত করেছে? নাকি ভালোমন্দ খেয়ে শরীরে যে মেদ জমেছিল, সেই ঘটিয়েছে অঘটন?
বিশেষজ্ঞ চিকিত্‍সক জানালেন, এই ধরনের উচ্চ রক্তচাপকে বলে প্রাইমারি হাইপারটেনশন। তবে তা মধ্যবয়সীদের মাঝেই একচেটিয়া ছিল। কিন্তু আজকাল দ্রুতগতিতে জীবনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ২০-৪০ বছর বয়সেও এর প্রকোপ বাড়ছে। হাইপ্রেশার হতে যা লাগে, তার প্রত্যেকটিই যুবকের ছিল। কাজেই ওর যে সমস্যা হবে তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তবে কপাল খারাপ বলে একেবারে স্ট্রোকের মাধ্যমে রোগটি সামনে এসেছে।

প্রেশার কেনো বাড়ে?

বাবা-মা দুজনের হাই প্রেশার থাকলে সন্তানের হওয়ার আশঙ্কা থাকে ৬৫-৭০ শতাংশ। এক জনের থাকলে ৩০-৪০ শতাংশ আশঙ্কা। বংশে হাই প্রেশার থাকলে ওবেসিটি, ধূমপান, স্ট্রেস, ভুল খাওয়া, শুয়ে-বসে থাকার অভ্যেস থেকে রোগের সূত্রপাত হতে পারে।
হাই প্রেশারে আক্রান্ত মানুষের মধ্যে শতকরা ৫-৬ জনের রক্তচাপ বাড়ে কিছু অসুখে। যেমন কিডনি বা অ্যান্ডোক্রিন গ্ল্যান্ডের অসুখ, হাইপার ক্যালসিমিয়া, পরফাইরিয়া, কোয়ার্কটেশন অফ এওরটা ইত্যাদি। কিছু মহিলার প্রেশার বাড়ে গর্ভাবস্থায়।

হাইপ্রেশার ঠেকাতে ওজন কমান। ছোট বয়সে ওজন বেড়ে গেলে সমস্যা বেশি।

  1. ডায়াবেটিস থাকলে প্রেশার বাড়ার আশঙ্কা প্রতি পদে। কাজেই সুগার বাড়লে তাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করুন।
  2. পরিবারে হাই প্রেশার থাকলে কম বয়স থেকেই কাঁচা লবণ খাবেন না। রান্নায় কম নুন দিন। নোনতা খাবার কম খান।
  3. ধূমপান করবেন না।
  4. টেনশন কমাতে যোগা, মেডিটেশন, রিল্যাক্সেশন এক্সারসাইজ করুন।
  5. বাচ্চাদের কিডনির অসুখ হলে যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিত্‍সা করে তাকে সারিয়ে তুলুন।
  6. ঘন ঘন প্রস্রাবে সংক্রমণ হলে তার চিকিত্‍সা করান।

নিয়মিত হালকা কিছু ব্যায়াম, যেমন ওয়াকিং, সাঁতার, জগিং, সাইক্লিং ইত্যাদি করুন।

কতো হলে তা হাই প্রেশার?

২০-৪০ বছর বয়সি মানুষের রক্তচাপ ১৪০/৯০-এর বেশি হলে তার উচ্চরক্তচাপ হয়েছে বলা হয়। প্রেশার ১৪০/৯০ থেকে ১৫৯/১০৪-এর মধ্যে হলে তাকে বলে মৃদু উচ্চ রক্তচাপ। ১৬০/১০৫-১৯৯/১১৪ হলে মাঝারি এবং ২০০/১১৫ হলে মারাত্মক। গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে ১২০/৮৫-এর ওপরে উঠলেই তা উচ্চ রক্তচাপ।

প্রেশার মাপার নিয়ম

হাই প্রেশারের রোগী হওয়ার আগে কম করে তিনবার রক্তচাপ মেপে দেখা উচিত। খেয়াল রাখা হয় প্রেশার কাফ যেন রোগীর হাতে ঠিকঠাক চাপ সৃষ্টি করে। একই মেশিনে দিনের বিভিন্ন সময়ে বা বিভিন্ন দিনে প্রেশার মাপা হয়। ভালো করে বিশ্রাম নেওয়ার পর শুয়ে মাপুন, তারপর বসে মাপুন। উন্নত দেশে চিকিৎসা শুরু করার আগে ৪ রকম সেটিংয়ে প্রেশার মেপে দেখার নিয়ম।

১. ক্লিনিকে

২. বাড়িতে

৩. মেশিন লাগিয়ে ২৪ বা ৪৮ ঘণ্টা ধরে প্রেশার মেপে, যাকে বলে অ্যাম্বুলেটরি ব্লাড প্রেশার মনিটরিং

৪. প্রয়োজনে হার্টের মূল ধমনি ও অ্যাওরটার প্রেশার কতো আছে তাও মাপা হয়।

এতভাবে মাপার কারণ হলো দিনের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানসিক অবস্থায় মানুষের প্রেশার আলাদা হয়। ডাক্তারের চেম্বারে প্রেশার যতো পাওয়া যায়, বাড়িতে হালকা মুডে মাপলে তার চেয়ে অনেক কম হতে পারে। ভোর ৬টায় যে প্রেশার থাকে দুপুর ১২টায় থাকে তার চেয়ে অনেক কম। সেই প্রেশার আবার বাড়তে বাড়তে রাত ১১টা-১২টার দিকে অনেক বেড়ে আবার কমতে শুরু করে। ভোর ৪-৬টায় আবার বেড়ে যায়। প্রেশার আচমকা অনেকটা বেড়ে যাওয়ার জন্যই অধিকাংশ হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক হয় ভোররাতে। তরঙ্গের মতো প্রেশারের এই বাড়া-কমাকে বলে ডারনাল ভেরিয়েশন। প্রেশারের রোগীদের ক্ষেত্রে যা অনেক সময়ই বিপদ বয়ে আনে। অ্যাম্বুলেটরি ব্লাড প্রেশার মনিটরিং করলে একে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
আমাদের দেশে সব প্রেশারের রোগীদের ক্ষেত্রেই যে এতো কিছু করা হয় তা নয়। ক্লিনিকে মেপেই সচরাচর চিকিত্‍সা হয়। তবে বর্ডার লাইন হাই প্রেশার থাকলে (১৩৫-৪০/৮৫-৯০) অ্যাম্বুলেটরি ব্লাড প্রেশার মনিটরিং করা হয়৷

উপসর্গ

অনেক সময় বোঝা যায় না। অন্য কারণে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে জানা যায়। মূলত এই কারণেই যতো মানুষ হাই প্রেশারে ভোগেন। তার মধ্যে কম করেও ৫০ শতাংশ কোনোদিনই জানতে পারেন না যে, তাদের সমস্যা আছে। স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আগ পর্যন্ত রোগ ধরা পড়ে না। কিডনিও খারাপ হতে শুরু করে। ভাগ্যবানদের কিছু উপসর্গ হয়, যা রক্তচাপ বাড়া ছাড়া অন্য কারণেও হতে পারে। যেমন,

১. মাথাব্যথা, বিশেষ করে মাথার পিছনে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ব্যথা শুরু হয়। দু-চার ঘণ্টা পর কমে।
২. মাথাঘোরা।
৩. বুক ধড়ফড় করা।
৪. মনোযোগের অভাব।
৫. ক্লান্তি।
৬. হাঁপিয়ে ওঠা।
৭. মাংসপেশীর দুর্বলতা।
৮. পা ফোলা।

৯. বুকব্যথা।
১০. নাক দিয়ে রক্ত পড়া।

চিকিৎসা

মাঝারি এবং মারাত্মক উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খেতে হয় সঙ্গে জীবনযাত্রার নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। মৃদু উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে দ্বিমত আছে। কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ লাগে না। নিয়ম মেনে চললেই অবস্থা আয়ত্তে আসে। ৫-৬ রকম ওষুধ দিয়ে চিকিত্‍সা হয়। যেমন-
১. ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার, এসিই ইনহিবিটার, এআরবি এবং ডাইইউরেটিক দেওয়া যায় যেকোনো ধরনের হাই প্রেশারে। তবে কম বয়সিদের ক্ষেত্রে এসিই ইনহিবিটার ও এআরবি ভালো কাজ করে। আর বয়ষ্কদের ক্ষেত্রে ভালো কাজ হয় ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার এবং ডাই-ইউরেটিক।
২. বিটাব্লকার দেওয়া। যাদের প্রেশারের সঙ্গে ইস্কিমিয়া ও নাড়ির ছন্দে কিছুটা গোলমাল আছে।
৩. বয়স্ক মানুষের যদি ডায়াবেটিস, স্ট্রোক, হার্ট ফেইলিওর, হালকা কিডনির অসুখ থাকে তাহলে এসিই ইনহিবিটার এবং এআরবি জাতীয় ওষুধ ভালো কাজ করে। গর্ভাবস্থায় এই ওষুধ দেওয়া যায় না।
৪. রেজিস্ট্যান্ট ব্লাড প্রেশারে অন্য ওষুধের সঙ্গে আলফা ব্লকার বা অ্যালডোস্টেরন অ্যান্টাগনিস্ট দিলে ভালো কাজ হয়। বিটা ব্লকারও দেওয়া হয়। তবে সাধারণভাবে এই ওষুধ ইস্কিমিয়া থাকলেই দেওয়া হয় বেশি। হাই প্রেশারের সঙ্গে হার্ট ফেইলিওর থাকলে অ্যালডোস্টেরন অ্যান্টাগনিস্ট ভালো কাজ করে।
৫. মিথাইল ডোপা দেওয়া হয় প্রস্টেট ও কিডনির সমস্যা থাকলে; গর্ভাবস্থায় ও আয়ত্ত্বে আনা যাচ্ছে না এমন ব্লাড প্রেশারে।

জীবনযাপনের নিয়ম

  1. ওজন ঠিক রাখা।
  2. হালকা ব্যায়াম করা। দুই-তিন কিলোমিটার টানা হাঁটলেও কাজ হয়।
  3. খাবারের সাথে কাঁচা লবণ খাওয়া বন্ধ করতে হবে। এ ছাড়া রান্নায় কম লবণ ব্যবহার করা এবং যে খাবারে লবণ বেশি আছে যেন ফাস্টফুড, আচার, সসেজ, পাঁপড়ি, মুড়ি খাওয়া কমানো। যে খাবারে ওজন এবং কোলেস্টেরল বাড়ে, যেমন মিষ্টি আলু, ঘি, মাখন, ডালডা, ডিমের কুসুম, ভাজাভুজি, তৈলাক্ত খাবার কম খাওয়া।
  4. মানসিক চাপ, টানাপড়েন এড়িয়ে চলা।
  5. তামাকের নেশা ছেড়ে দেওয়া।
  6. ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা। মাসে অন্তত দুই বার রক্তচাপ মাপা।
  7. প্রয়োজনে ওষুধ খাওয়া। সাইড এফেক্ট হলে ডাক্তারকে জানানো।
  8. অন্য ওষুধ শুরু করার আগে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা।
  9. সারা জীবন ওষুধ খেতে হবে, নিয়ম মানতে হবে সেই মানসিক প্রস্তুতি।

কী কী করা যাবে না

খুব বেশি রাগারাগি, চেঁচামেচি করা যাবে না।

  1. লবণ পুরোপুরি বন্ধ করবেন না। গরমে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।
  2. আগেকার দিনে ভালো ওষুধ ছিল না। ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন- দুধ, ছানা, ছোট মাছ, পেঁয়াজ বেশি করে খেতে হতো। এখনও অনেকে সেই নিয়ম মেনে চলেন। এ সমস্ত খাবার খেতে পারেন, কিন্তু ওষুধের বদলে নয়।
  3. ব্যথা কমার ওষুধ, গর্ভনিরোধক বড়ি থেকে রক্তচাপ বাড়তে পারে। কাজেই হাইপ্রেশার থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এ সব ওষুধ খাবেন না।
  4. গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ বাড়া মা-সন্তান দুজনের জন্যই বিপজ্জনক। কাজেই সমস্যা হলে ডাক্তার দেখান। সন্তান জন্মানোর পরও ফলোআপ চালিয়ে যাবেন। কারণ কিছু মহিলার ক্ষেত্রে পরবর্তীকালেও সমস্যা থেকে যায়।

চিকিৎসা না করালে

রোগ পুষে রাখলে ইস্কিমিক হার্ট ডিজিজ থেকে শুরু করে হার্ট ফেইলিওর, স্ট্রোক, ব্রেন ইডিমা, পায়ে গ্যাংগ্রিন, পায়ে স্ট্রোক, কিডনি ফেইলিওর, চোখের রেটিনার সমস্যা, চোখে থ্রম্বোসিস থেকে হেমারেজ সব কিছু হতে পারে। কাজেই মাঝে মাঝে রক্তচাপ মাপুন। রোগ ধরা পড়লে ভালো করে চিকিত্‍সা করান।

সূত্র : এই সময় অনলাইন, পরামর্শ দিয়েছেন : বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সুকুমার মুখোপাধ্যায়

Check Also

aloe-jail-health-benefits

অ্যালোভেরা জেলের স্বাস্থ্য উপকারিতা

ত্বকের সুরক্ষা ও ত্বকের নানান ধরণের সমস্যা সমাধানের অন্যতম কার্যকরী একটি উপাদান হচ্ছে অ্যালোভেরা। এমনকি …

Fire-gas-cylinders

গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগলে কী করবেন? (ভিডিও)

বাংলাদেশের অল্প কিছু এলাকায় লাইনের গ্যাস রয়েছে। বাকী সব এলাকার মানুষই এলপিজি বা সিলিন্ডার গ্যাস …

One comment

  1. I definitely wanted to write a brief word so as to thank you for those fabulous items you are giving out on this site. My tinmicoesum-ng internet research has now been paid with good quality insight to write about with my relatives. I would state that that most of us website visitors are truly fortunate to live in a great place with so many lovely people with good pointers. I feel quite blessed to have discovered your entire webpages and look forward to some more brilliant minutes reading here. Thanks a lot again for all the details.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by themekiller.com anime4online.com animextoon.com apk4phone.com tengag.com moviekillers.com